ঢাকা , সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ , ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়ের আশা বাঁচিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করল বাংলাদেশ

আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৮:৪১:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৮:৪১:১৯ অপরাহ্ন
জয়ের আশা বাঁচিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করল বাংলাদেশ ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, স্পোর্টস ডেস্ক :  আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের শুরুটা হলো ব্যাটিং দিয়ে। মেহেদী হাসান মিরাজ আর লিটন দাস মিলে দারুণ ব্যাটিং করলেন। ব্যক্তিগত মাইলফলকও স্পর্শ করলেন দুজনই। লিটন পেলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের দেখা আর মিরাজ হাফসেঞ্চুরি। এতে স্বগাতিকদের বড় লিড দেয় বাংলাদেশ। এরপর বোলিংটাও মন্দ হয়নি। দিন শেষে তিন উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। দিন শেষ করেছে জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান তুলেছে আফগানিস্তান। এর আগে দুই ইনিংস মিলিয়ে স্বাগতিকদের ৪৭৮ রানের লিড দিয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৩৪৭ রানে পিছিয়ে আছে আফগানিস্তান। ১২৬ বলে ৩৫ রানে সেদিকুল্লাহ অটল আর ২৭ বলে ১৯ রানে অপরাজিত আছেন হাশমতুল্লাহ শাহিদি।
পাহাড় সমান লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। তবে তাদের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ২৮ রানের মধ্যেই হারায় টপঅর্ডারের দুই ব্যাটারকে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই আফগান শিবিরে আঘাত হানেন ইবাদত হোসেন। ফেরান ৫ বলে ২ রান করা ওপেনার আব্দুল মালিক।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন সেদিকুল্লাহ অটল আর শাহিদুল্লাহ কামাল। ৩৩ বলে ২৫ রানের জুটি গড়েন তারা। তবে এই জুটিকে বড় হতে দেননি হাসান মাহমুদ। ইনিংসের সপ্তম ওভারেই লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ১৯ বলে ১৯ রান করা শাহিদুল্লাহ কামালকে ফেরান হাসান।
দুই উইকেট তুলে নিয়ে চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে তৃতীয় উইকেট তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিলেন হাসান। ১৮তম ওভারে রহমত শাহ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্লিপে। কিন্তু বল হাতে জমাতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। তখন রান ছিল ১৮।
জীবন পেয়ে এরপর বেশ খানিকটা সময় বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রাখেন রহমত শাহ। সেদিকুল্লাহ অটলকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৮২ রানের জুটি। যেই জুটি বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ দাঁড়াচ্ছিল। প্রশ্ন ছিল- কে ভাঙবেন এই জুটি। অবশেষে সেই জুটি ভাঙেন ইবাদত। 
ইনিংসের ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে ইবাদতের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রহমত। লিটনের গ্লাভসের বল জমা হতেই উদযাপনে মেতে উঠে বাংলাদেশ শিবির। এই উদযাপন দেখেই বোঝা যাচ্ছিল উইকেটটা কতটা গুরুত্বপূর্ন ছিল। হাফসেঞ্চুরি তুলে নেওয়া আফগান অধিনায়ক ফেরেন ১২৪ বলে ৫১ রান করে।
পরের কয়েক ওভারে আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি অটল আর হাশমতুল্লাহ শাহিদি। দুজনে মিলে দিনের বাকি সময়টা কাটিয়ে দেন তারা। চতুর্থ উইকেটে ৪৭ বলে ২২ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছেন এই দুজন। পঞ্চম দিনের সকালে এখন নতুন উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কতটা দ্রুত আফগানদের গুটিয়ে দিয়ে জয় তুলে নিতে পারে বাংলাদেশ সেটাই দেখার অপেক্ষা।
এর আগে ৪ উইকেট হাতে রেখে ২২৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। অপরাজিত থেকে মাঠে নেমেছিলেন লিটন দাস আর মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দিন বিকেলে যে লড়াই শুরু করেছিলেন তারা, সেটি চলল আজকের দুপুরের পর পর্যন্ত। চতুর্থ দিনের সকালটা কোনো উইকেট না হারিয়েই কাটিয়ে দেন তারা। ২৬ ওভার ব্যাট করে তোলেন ১১৪ রান।
প্রথমে সেশনে দারুণ ব্যাটিং করে সেঞ্চুরির অপেক্ষা জাগিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গিয়েছিলেন লিটন। বিরতি থেকে ফিরে সেটাকে পূর্ণতাও দিলেন তিনি। দারুণ ব্যাটিংয়ে টানা দুটি চার মেরে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন লিটন। টেস্ট ক্যারিয়ারের এটি তার সপ্তম সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরি করার পর অবশ্য আর বেশি দূর যেতে পারেননি লিটন। দ্রুত কিছু রান তোলার পরিকল্পনা থেকে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এতে ভাঙে সপ্তম উইকেটে মিরাজের সঙ্গে তার সপ্তম ৪৯ রানের জুটি। যেটি বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসিয়েছে।
মোহাম্মদ সালিমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১১৭ বল থেকে ১৪ চারের সাহায্যে ১০২ রান করেন লিটন। তিনি ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ১০৫.২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৩৭৩ রান। এর আগে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ৪৭৮ রান।
এর আগে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজও। লিটনকে সঙ্গ দিতে নেমে দারুণ ব্যাটিং করেছেন তিনিও। টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে আফগান বোলারদের কোনো সুযোগ দেননি এই টাইগার অলরাইন্ডার। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৯৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।


সংক্ষিপ্ত স্কোর (চতুর্থ দিন শেষে)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬/১০ (তামিম ৮৩, সাদমান ৬৭, মুমিনুল ৩৯, শান্ত ২৯, মুশফিক ০, লিটন ৫৩, মিরাজ ২৪, হাসান ২, তাইজুল ৯, এবাদত ০, নাঈম ৩৫*; আহমাদজাই ২০.৩-৩-৭৯-৩, সালিম ২৩-২-৮২-৪, হাশমতুল্লাহ ৩-০-২৪-০, ইসমাত ১২.৪-৫-২০-২, জিয়া-উর-রহমান ১৯-১-৭৭-০, কাইস ১৪.২-১-৬০-১)
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ৮৯.১ ওভারে ২৪০/১০ (অটল ১৭, আব্দুল মালিক ৬২, শাহিদুল্লাহ ২০, হাশমতুল্লাহ ০, ইকরাম ৩২, ইসমাত ০, কাইস ০, জিয়া-উর-রহমান ০, ইয়ামিন ০, সালিম ০, রহমত ১০৫* ; হাসান ২১-৫-৫৫-৫, এবাদত ১৫.১-৩-৫৬-৪, মিরাজ ২১-৭-৪১-১, তাইজুল ২১-৪-৪৪-০, নাঈম ১০-০-৩৭-০, মুমিনুল ১-০-৬-০
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ১০৫.২ ওভারে ৩৭২/৭ (ইনিংস ঘোষণা) (সাদমান ১৩, মুমিনুল ৭, তামিম ৩১, শান্ত ৮২, মুশফিক ৮১, হাসান ০, লিটন ১০২, মিরাজ ৫২*; আহমাদজাই ২০-২-৯৬-২, সালিম ১৯.২-৩-৬৯-২, ইসমাত ৩-০-৯-০, জিয়া-উর-রহমান ৩৩-৪-৮৬-২, কায়েস ১৫-০-৭০-১, আব্দুল মালিক ৩-১-৯-০, হাশমতুল্লাহ ১২-০-৩২-০)
আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস : ৫০ ওভারে ১৩২/৩ (আব্দুল মালিক ২, শাহিদুল্লাহ ১৯, রহমত ৫১, অটল ৩৫*, হাশমতুল্লাহ ১৯*; হাসান ১২-০-৩১-১, ইবাদত ১০-২-৩২-২, মিরাজ ৭-০-৩১-০, তাইজুল ১৫-৪-২৪-০, নাঈম ৬-১-১০-০)

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ